বার্ধক্য ভাতা (old age pension news), বিধবা ভাতা (widow pension news) এবং বিকলাঙ্গ ভাতা (disability pension news) 1000 থেকে 2000 টাকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভোটের পূর্বে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সেই অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি জনসভায় বক্তৃতার মাধ্যমে বলেন যে, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিভিন্ন ধরনের ভাতা যা আগের সরকারে এক হাজার টাকা করে পেতো, সেগুলিকে ২০০০ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগের সরকার যে 1000 টাকা করে ভাতা দিত সেগুলি দিয়ে বৃদ্ধ, বয়স্ক বা প্রতিবন্ধীদের সারা মাসে ওষুধ খেয়েই এই টাকা শেষ হয়ে যেত। কারো কারো হয়তো এই টাকাতেই মিটতো না বিল, আরো টাকার প্রয়োজন হতো।
এত এই সমস্ত ব্যক্তিরা তেমন কোন কাজ করতে পারত না, আবার টাকার জন্য ছেলে, বাবা বা অন্যান্য ব্যক্তিদের উপর পুরোটাই নির্ভরশীল হতে হতো। তাই এই সমস্ত কথা কে চিন্তা করেই বর্তমান সরকার ভাতা টাকা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল
তাই জুলাই মাস পর্যন্ত আগের যে ভাতা টাকা পেতেন, সেই 1000 টাকা পাবেন। কিন্তু আগস্ট মাস থেকে এটি বাড়িয়ে 1500 করে দেওয়া হয়।
অর্থাৎ যারা বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে 1000 টাকা করে পেতেন তারা আগস্ট মাস থেকে 1500 টাকা করে পাবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমরা সংকল্প নিয়েছিলাম যে এই সমস্ত ভাতা গুলি 2000 টাকা করে দেওয়া হবে। কিন্তু বর্তমানে এই 1500 করে দেওয়া হচ্ছে, পরে এটিকে বাড়িয়ে 2000 করে দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগের সরকার যে সমস্ত অ্যাপ্লিকেশন গুলি নিয়েছিল সেগুলিকে গ্রহণ করা হবে না। এই টাকা পাওয়ার জন্য ব্যক্তিদের কে পুনরায় আবেদন করতে হবে।
যাতে সঠিক ব্যক্তিরাই বা উপযুক্ত ব্যক্তিরাই যেন টাকা পায়। কারণ আগের সরকার বিধবা, বার্ধক্য বা প্রতিবন্ধী নয় এমন ব্যক্তিদেরও টাকা দিয়েছেন। অর্থাৎ কিছু কিছু নেতারা নিজেদের স্বার্থের জন্য অনুপযুক্ত ব্যক্তিদেরও টাকা পাইয়ে দিয়েছে।
তাই ওই সমস্ত ভুয়ো ব্যাক্তিদের বাছাই করার জন্য নতুন করে আবেদন নেওয়া হবে। ওই আবেদনের উপরে ভিত্তি করেই ব্যক্তিদেরকে টাকা প্রদান করা হবে। প্রয়োজন হলে এই ভাতা টাকা পরবর্তীকালে আরো বাড়ানো হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী বলেন আজ বিধবা, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী মানুষেরা সমাজের সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হচ্ছে। তাই তাদের প্রতি বিশেষ করে লক্ষ্য রাখতে হবে। সরকারের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য রাখতে হবে তারা যেন সমাজে অবহেলিত না হয়।
তিনি আবেদনের জন্য বলেন, সকলের জন্যই জনকল্যাণ শিবির খোলা হবে, সেখানে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার জন্য সেখান থেকে ফর্ম দেয়া হবে, সেই ফর্মটি পূরণ করে সেখানেই জমা দিতে হবে। এই আবেদনের জন্য কোন টাকা লাগবে না।
আবেদনের জন্য ফ্রমের সঙ্গে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাংকের পাস বই, প্রতিবন্ধী হলে প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট, বিধবা হলে স্বামীর মৃত্যু শংসাপত্র প্রদান করতে হবে। এগুলোর হার্ড কফি দিতে হবে অর্থাৎ জেরক্স করে জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে এক কপি ফটো থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এগুলির জন্য অনলাইন আবেদনপত্র নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। যদি হয় তাহলে জানিয়ে দেয়া হয়।