SSC News 2026 | শিক্ষায় বড় বদল: মাদ্রাসা কমিশন বন্ধ হচ্ছে

Image generated By Meta Ai

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। মাদ্রাসায় শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা কমিশনের পরিবর্তে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগের ব্যবস্থা করার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে চাকরিপ্রার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক মহল—সবার মধ্যেই আলোচনা চলছে।

একসময় মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই হতো। পরে ২০০৮ সালে আলাদা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তৈরি হয়। তখন উদ্দেশ্য ছিল মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য পৃথক নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ব্যবস্থাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে। বর্তমান সময়েও নানান প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ গুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল নিয়োগের দীর্ঘ প্রক্রিয়া নিয়ে। অনেক সময় পরীক্ষা বা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়মিত হয়নি, এখনো হয়নি কয়েক বছর অন্তর অন্তর নিয়োগ প্রক্রিয়া কমপ্লিট হচ্ছে। ফলে বহু যোগ্য চাকরিপ্রার্থী অপেক্ষায় থেকে থেকে তাদের বয়স হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিভিন্ন মাদ্রাসাতেও শিক্ষক ঘাটতির সমস্যা তৈরি হয়ে রয়েছে। যার ফলে পঠনপাঠনে তার প্রভাব যথেষ্ট পরিমাণে পড়েছে।

এবার সেই জায়গাতেই পরিবর্তনের কথা বলা বলা হয়েছে। এই নতুন শিক্ষা অবস্থায় বলা হয়েছে, সাধারণ স্কুল এবং মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ যদি একই কমিশনের মাধ্যমে হয়, তাহলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটা অভিন্ন কাঠামো তৈরি হবে। এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সময়ের মতো কমপ্লিট করা যাবে। 

 পরীক্ষার নিয়ম, মেধার মূল্যায়ন এবং নিয়োগের পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা করেছে। চাকরিপ্রার্থীদের কাছে এই বিষয়টি তাই  গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তবে আমি মনে করি শুধু কমিশন পরিবর্তন করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা যায় না। কারণ এর আগে নিয়োগ প্রক্রিয়াতে অনেক সমস্যা হয়েছে, তাই  নিয়োগ কতটা নিয়মিত হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ থাকে, সেটাই আসল বিষয়। নাহলে আগের মতই টাকা দিয়ে চাকরি কেনা যেন না হয়।

মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও এই এই কমিশনকে বাদ দিয়ে নতুন কমিশনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রভাব পড়তে পারে। যোগ্য শিক্ষক নিয়মিত নিয়োগ হলে পড়াশোনার পরিবেশ আরও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 আধুনিক শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সাধারণ বিষয়ের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আরও শক্তভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন।

এর ফলে একজন মাদ্রাসা পড়ুয়া ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, গবেষক কিংবা প্রশাসনিক আধিকারিক হওয়ার স্বপ্ন আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেখতে পারবে। তবে এমনটা নয় এর আগে যারা মাদ্রাসা থেকে পড়তো তারা কোন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হয়নি। মাদ্রাসা থেকে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর হয়েছেন। অনেকে শিক্ষাবিদো হয়েছেন। 

শিক্ষক মহলের একাংশের মতে, একই নিয়োগ ব্যবস্থার আওতায় এলে মাদ্রাসার শিক্ষক এবং সাধারণ স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যে প্রশাসনিক ব্যবধানও কিছুটা কমতে পারে। তাদের বেতন, বদলি বা অন্যান্য পরিষেবার ক্ষেত্রে আর একটা পরিবর্তন আসবে

অবশ্য এই পুরো পরিবর্তন বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয় । সরকারি নির্দেশিকা, আইনি প্রক্রিয়া এবং নিয়োগের বিস্তারিত নিয়ম সামনে এলেই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে আমাদের কাছে।

সামনে নিয়ে বলা যায় মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন কে বন্ধ করে, যে স্টাফ সিলেকশন কমিশনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে তাতে যাই পারে হোক না কেন, নিয়োগ যেন নিয়মিত হয়, পরীক্ষা যেন প্রতিবছর হয়।

শেষ কথা একটাই—নিয়োগে স্বচ্ছতা থাকুক, যোগ্যরা সুযোগ পাক। শিক্ষার মান বাড়ুক। তাহলেই এই পরিবর্তনের আসল উদ্দেশ্য সফল হবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *