SIR কি | SIR কেন হচ্ছে | ভয়ের কারণ | SIR Valid documents list

পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গলির মোড়ের আড্ডা কিংবা সোশ্যাল সর্বত্রই এখন একটাই কথা SIR বা এসআইআর (SIR Valid documents list below)। হয়তো অনেকে অনেক রকমই কথা বলছে আপনি হয়তো সবকিছু বুঝতে পারছেন না । কিংবা ধারণাটা স্পষ্ট হচ্ছে না।

কেউ বলছে আপনার নাগরিকত্ব চলে যাবে, কেউ বলছে আপনাকে এখান থেকে ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে হবে, কেউ আবার বলছে দলিল থেকে শুরু করে অনেক রকমের সমস্ত কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এখন এই মুহূর্তে এই রকম বিভিন্ন কথা আমরা শুনছি চারিদিকে। 

আপনি এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আপনাকে খুব সহজে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছি, যে SIR বা এসআইআর আসলে কি? এবং এটা এখন হচ্ছে কেন? 

👉 SIR বা এসআইআর আসলে কি?

SIR এর সম্পূর্ণ কথাটা হলো স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন। যাকে আমরা বাংলায় বলতে পারি ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন। 

আরো সহজে যদি আপনাদেরকে বুঝিয়ে বলি,  তাহলে SIR হচ্ছে এমন একটা প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আমাদের বর্তমানে যে ভোটার তালিকা রয়েছে বা ভোটার লিস্ট রয়েছে তার মধ্যে থেকে মৃত, কিংবা অন্য কোনো জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছে, এই সমস্ত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়াটি।

 একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া বা জাতীয় নির্বাচন কমিশন দ্বারা এই প্রক্রিয়াটি করা হয়। আবার এই তালিকাতে ধরুন যারা নতুন ভোটার সংযুক্ত হচ্ছে তাদের সকলের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

কেন না এরা প্রত্যেকে ভোট দিচ্ছে। সুতরাং সেই যে এক্সিস্টিং ভোটার লিস্ট রয়েছে তার মধ্যে যারা নতুন ভোটার ইনক্লুড হচ্ছে যারা ভারতের নাগরিক, তাদের নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ করা হয়।

 এবং যতটা সম্ভব এই ভোটার তালিকা থেকে যে সমস্ত ভুল ত্রুটি আছে, যে সমস্ত অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম আছে, সেই সমস্ত কিছু ডিলিট করে ফেলা হয়। যাতে শুধুমাত্র সঠিক এবং যোগ্য ব্যক্তিরাই ভোট দিতে পারেন।

👉 SIR এর ইতিহাস

 এবার আপনার প্রশ্ন আসতে পারে পশ্চিমবঙ্গে আগে কি কখনো এসআইআর হয়েছে? উত্তর হলো হ্যাঁ হয়েছে। 1951 সাল থেকে শুরু করে 2004 সালের মধ্যে মোট আট (8) বার ভারতে এসআইআর হয়েছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বিগত 2002 সালে SIR প্রক্রিয়া সংগঠিত হয়েছিল। 

👉 বর্তমানে SIR কে নিয়ে মানুষ এত ভয় পাচ্ছে কেন

এবার আপনার মনে একটা প্রশ্ন আসতে পারে যে, পশ্চিমবঙ্গে যদি SIR আগে হয়েই থাকে তাহলে মানুষে এত ভয় পাচ্ছে কেন? এর সোজা সাপটা উত্তর হলো মানুষ যতটা না ভয় পাচ্ছে, বরং একদল মানুষ নিজেদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে  আরো বেশি করে ভুল খবর ছড়াচ্ছে মানুষের মধ্যে।

নিজেদের কিছু স্টেটমেন্ট দিচ্ছে যেটা কিনা একতরফা। এছাড়াও কিছু ভুলভাল প্ররোচনা দিচ্ছে যাতে মানুষ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। কারণ যদি মানুষের নাম সত্যিই বাদ দিতে হতো, যদি মানুষকে সত্যিই দেশ ছাড়া করতে হতো, তাহলে বাকি যে 11 টা নথির কথা বলা হয়েছে, বাকি যে আরো প্রমাণ দেওয়া করার কথা বলা হয়েছে তাহলে সেগুলো বলাই হতো না। 

👉এখন SIR হচ্ছে কেন

এবারে আপনার মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে যে এখন SIR হচ্ছে কেন? তার কারণ এটা নির্বাচন কমিশনের ডিসিশন। আমাদের যে জাতীয় নির্বাচন কমিশন তারা ডিসিশন নিয়েছে যেহেতু আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাডু, পন্ডিচেরি এই সমস্ত জায়গায় ভোট রয়েছে। তার আগে যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সমস্ত রাজ্যের যে এক্সিস্টিং ভোটার তালিকা অলরেডি রয়েছে, সেটাকে যতটা সম্ভব ত্রুটিমুক্তভাবে নতুন করে আপডেট করা। 

ইতিমধ্যে আমি আপনাকে অলরেডি বলেইছি যে পশ্চিমবঙ্গে লাস্ট SIR  হয়েছিল 2002 সালে। তারপর থেকে এতগুলো বছর কেটে গেছে পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্যান্য আরো অনেক যে বাকি রাজ্যগুলোর কথা বললাম, সেই বিভিন্ন রাজ্যগুলোতে এত বছরে নতুন অনেক পরিমাণ ভোটার যুক্ত হয়েছে। 

সুতরাং তাদের নাম তোলা এবং যারা মৃত ব্যক্তি, যারা অযোগ্য ব্যক্তি, যারা স্থানান্তরিত হয়ে গেছেন তাদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য SIR হচ্ছে।  2026 এ পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্যান্য রাজ্যগুলিতে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন, তার আগেই যতটা সম্ভব ত্রুটিমুক্ত নির্ভুল ভোটার তালিকা করার জন্যই কিন্তু এই SIR প্রক্রিয়া সংগঠিত হতে চলেছে। 

বর্তমানে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের যে প্রেস কনফারেন্স হয়েছিল, সেই প্রেস কনফারেন্সে কিন্তু SIR হওয়ার কারণ হিসেবে এইগুলোকেই উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ কারোর নামের বানান, কারো ঠিকানা বা কোন কিছু যদি তথ্য ভুল থেকে থাকে সেগুলোকে ঠিক করা, যারা অযোগ্য ব্যক্তি কিংবা মৃত ব্যক্তি তাদের নাম এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে, কেউ স্থানান্তরিত হয়ে গেলে যাতে একই ব্যক্তির নাম দুটো বিধানসভায় আলাদা আলাদা করে না থাকে, সেই সমস্ত প্রক্রিয়াগুলোকে নতুন করে সংশোধন করার জন্যই কিন্তু এই প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। 

সেই কারণে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়াকে, একটি নিয়মিত সময় অন্তর যে ত্রুটি সংশোধন প্রক্রিয়া করা হয়, সেই সমস্ত সাধারণ প্রক্রিয়ার মধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে।

👉 2002 সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে করণীয়

 এবারে কথা হচ্ছে 2002 সালের ভোটার তালিকায় আপনার যদি নাম না থেকে থাকে আপনাকে কি তাহলে দেশ ছেড়ে দিতে হবে? আপনাকে কি তাহলে ডিটেনশন ক্যাম্পে চলে যেতে হবে? উত্তর হল না। একদম ভুল কথা। 

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের যে রিসেন্ট প্রেস কনফারেন্স হয়েছে তার মধ্যে কিন্তু ওয়ান বাই ওয়ান 11 টা নথি আপনাকে কিন্তু বলা হয়েছে। ওই নথি গুলোর মধ্যে আপনি অন্তত একটা নথি পেশ করতে পারলেই আপনার কিন্তু কোন রকম কোন সমস্যা হবে না। তাই কোন প্ররোচনায় পা দেবেন না,  কোনরকম ফালতু কথা শুনে উত্তেজিত হবেন না, কোন হটকারি সিদ্ধান্ত নেবেন না, ডিপ্রেসড হবেন না, কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন না।

 জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যে 11 টা নথি আপনাদেরকে বলা হয়েছে সেই 11 টা নথির যতগুলো সম্ভব আপনার কাছে জোগাড় করে রাখুন। আপনার এলাকার BLO বা বুথ লেভেল অফিসার আপনার বাড়িতে এলে বা আপনার এলাকায় এলে যাতে আপনি সেই নথি পেশ করতে পারেন, এবং আপনার যাতে আর কোন সমস্যাই না হয়। 

SIR এ কি কি নথি লাগছে (sir valid documents list)

  •  1) কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বা কোন পাবলিক সেক্টরে কাজ করা কর্মীর বা পেনশন ভোগীর পরিচয় পত্র। 
  •  2) ১ই জুলাই ১৯৮৭ সালের আগে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যাংক, পোস্ট অফিস, জীবন বীমা এবং পাবলিক সেক্টর থেকে পাওয়া কোন শংসাপত্র, পরিচয় পত্র ও নথি।
  • 3) জন্ম সার্টিফিকেট। 
  • 4) পাসপোর্ট।
  • 5) সরকার দ্বারা স্বীকৃত কোন বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া যে কোনো সার্টিফিকেট।
  • 6) ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনসিপ সার্টিফিকেট (প্রয়োজনে)
  • 7) রাজ্য সরকার থেকে পাওয়া স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র।
  • 8) বন অধিকার বা ফরেস্ট রাইট সংক্রান্ত কোনো সার্টিফিকেট। 
  • 9) সরকার থেকে পাওয়া কোন জাতিগত শংসাপত্র (SC/ST/OBC)।
  • 10) রাজ্য বা স্থানীয় সরকারের দ্বারা তৈরি করা ফ্যামিলি রেজিস্টার। 
  • 11) সরকার থেকে প্রাপ্ত কোন জমি বা বাড়ির শংসাপত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *