কলেজ পড়ুয়াদের জন্য সুখবর, ৩ বছরে মিলবে ৫০,০০০ টাকা। এমনকি স্কুল শিক্ষার্থীরা ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা পাবেন। সমস্ত তথ্য নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে, সমস্ত তথ্য জানার জন্য আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ করুন।

রাজ্যের কলেজ পড়ুয়াদের জন্য এল বড় খবর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি এক জনসভা থেকে পড়ুয়াদের আর্থিক সাহায্য নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন । উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে টাকার সমস্যা যাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ।
তিন বছরের গ্রাজুয়েশন পড়া ছাত্রছাত্রীরা মোট ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মাধ্যমে জানানো হয়েছে। তবে পুরো টাকা একসঙ্গে দেওয়া হবে না। ধাপে ধাপে দেওয়ার কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন প্রথম বছরে ১৭ হাজার টাকা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় বছরেও ১৭ হাজার দেওয়া হবে। আর তৃতীয় বছরে দেওয়া হবে ১৬ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তিন বছরে ৫০ হাজার টাকা শিক্ষার্থীরা পাবে। যায় হোক কলেজে বা উচ্চশিক্ষায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই টাকা অনেক পরিবারের জন্য অনেকটাই সাহায্যকারী হবে।
শুধু কলেজ পড়ুয়াদের জন্যই নয়, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়েও বেশ কিছু ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি একটি প্রকল্পের নাম বলেন প্রকল্পটি হল‘কন্যা রত্ন’ প্রকল্প। এই প্রকল্পে ছাত্রীদের স্কলারশিপ ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করার কথা বলেছেন।
চাকরির ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার কথা বলা তিনি বলেছেন। PSC, SSC এবং পুলিশ নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার পর পরীক্ষার্থীদের কার্বন কপি দেওয়ার কথা ভাষণের মাধ্যমে তিনি বলেন।
এর ফলে বাড়িতে বসেই নিজেদের উত্তর মিলিয়ে দেখার সুযোগ পরীক্ষার্থীরা পেয়ে যাবেন। তাই নিজে থেকেই পরীক্ষার্থীরা স্বস্তি পাবেন, তারা কে কথাটা স্কোর করতে পারলো। মৌখিক পরীক্ষার নম্বরও কমিয়ে ৫ করা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন।
এর পাশাপাশি আগামী এক বছরে এক লক্ষ সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথাও তিনি ওই ভাষণের মাধ্যমে বলেছেন। তাই যারা অনেকদিন ধরে একটি পরীক্ষার কথা ভাবছেন অর্থাৎ কম্পিটিটিভ এক্সামের কথা তাদের জন্য সুখবর এটি।
মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্পে ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার কথাও মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন। বিধবা ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ভাতা বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করার দাবি তিনি করেছেন। পরে তা ২০০০ টাকা করার কথাও জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে।
স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও বড় পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। দিল্লি, মুম্বই, ভেলোর বা চেন্নাইয়ের মতো শহরের বড় হাসপাতালেও এই সুবিধা পাওয়া যাবে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিকাঠামোর দিকেও নজর রয়েছে। হলদিয়া ও নন্দীগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে নতুন সেতু, নন্দীগ্রামে রেলস্টেশন এবং বাড়ি বাড়ি পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজের কথাও উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে, শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, চাকরি থেকে পরিকাঠামো—একাধিক ক্ষেত্রে বড় বড় ঘোষণার কথা সামনে এসেছে। তবে এই সুবিধাগুলি কারা পাবেন, কী যোগ্যতা লাগবে এবং কবে থেকে টাকা দেওয়া শুরু হবে, সেই বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা অফিসিয়াল নির্দেশিকা প্রকাশ হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।