bhumihin yojana | ভূমিহীন কৃষক প্রকল্প সর্ম্পকে জানুন

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্প সম্পর্কে অনেকেই জানেন। এই কৃষক বন্ধু প্রকল্পে যাদের সর্বনিম্ন এক ডিস্মল জায়গা রয়েছে তারা বছরে দুইবার দুই হাজার টাকা করে টোটাল 4 হাজার টাকা চাষের জন্য পেয়ে থাকেন। 

অপরপক্ষে এই কৃষক বন্ধু প্রকল্পে যাদের এক একরের বেশি জমি রয়েছে, তাদেরকে বছরে দুইবার দুই কিস্তিতে 5000 টাকা করে টোটাল 10 হাজার টাকা প্রদান করা হয়ে থাকে।

ভূমিহীন কৃষক প্রকল্প (bhumihin yojana)

আর এই ভূমিহীন কৃষক প্রকল্প হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দ্বারা তৈরি করা একটি ভূমিহীন কৃষকদের জন্য প্রকল্প। অর্থাৎ যাদের কোনো জমি নেই বা এক ডিসেমেল জমিও নাই, কিন্তু তারা অপরের জমি চাষ করে। সেই সমস্ত ভূমিহীন কৃষকদের জন্য এই প্রকল্প। 

Image by Aamir Mohd Khan from Pixabay

👉 কাদের জন্য এই প্রকল্প

এই ভূমিহীন কৃষক প্রকল্পে যাদের কোন জমি নাই, কিন্তু অপর কোন ব্যক্তির জমি ভাগচাষি হিসেবে জমি চাষ করে থাকে, সে সমস্ত ভূমিহীন ভাগচাষী কৃষকদের জন্যই এই প্রকল্প। 

👉 এই প্রকল্পে কত টাকা করে প্রদান করা হবে 

   এই ভূমিহীন কৃষক প্রকল্পে যে সমস্ত ভাগচাষী ব্যক্তিগণ আবেদন করবেন, তারা প্রত্যেকেই বছরেতে দুই বার দুই কিস্তিতে 2 হাজার টাকা করে টোটাল 4 হাজার টাকা পাবেন। 

👉 এই টাকা কোন কোন সময় পাওয়া যাবে 

ভূমিহীন কৃষক প্রকল্পের টাকা দুই কৃষি মরশুমে, অর্থাৎ রবি মরশুমে এবং খরিফ মরসুমের শুরু বা মাঝের দিকে, এই টাকা প্রদান করা হবে। 

👉ভূমিহীন কৃষক প্রকল্পের জন্য কি কি ক্রাইটেরিয়া রয়েছে 

  •  এই প্রকল্পের  আবেদনের জন্য আপনাকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • আপনাকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা প্রদান করা অন্য কোনো প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করা চলবে না। যেমন- লক্ষ্মীর ভান্ডার।
  • আপনার কোন রেজিস্টিকৃত জল জমি থাকা চলবে না।

👉 ভূমিহীন কৃষক প্রকল্পের আবেদনের পদ্ধতি 

এই প্রকল্পের আবেদনের জন্য অনলাইন বর্তমানে কোন পদ্ধতি নাই। আপনাকে অফলাইনে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে অথবা ভূমি রেজিস্টিকৃত অফিসে গিয়ে আবেদন করতে হবে। 

প্রথমত,- আপনাকে আপনার অঞ্চলের নিকটবর্তী দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের দিন ওই ক্যাম্পে যেতে হবে। 

দ্বিতীয়তঃ – দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে আপনাকে ভূমিহীন কৃষক প্রকল্পের এপ্লিকেশন ফর্ম নিতে হবে। তবে এই ফর্ম হয়তো অনেক জেরক্স সেন্টারেও পেয়ে যাবেন।। 

তৃতীয়ত– ফর্মটি নেওয়ার পর, যে সমস্ত তথ্য ওইখানে চাওয়া হবে, সে সমস্ত তথ্যগুলিকে আপনাকে লিখে পূরণ করতে হবে। 

চতুর্থত,- ফর্মটি পূরণ করার পর তার সঙ্গে আপনার আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাংক পাস বুকের প্রথম পেজ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসের জেরক্স সেলফ অ্যাটেস্টেড করে, ওই ফর্মের পেছনেতে যুক্ত করতে হবে। 

পঞ্চমত– এরপর ফরমটিকে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে আপনাকে জমা দিতে হবে। 

ষষ্ঠত – এরপর দুয়ারে সরকারের অফিসার যদি আপনাকে রিসিভ কপিতে কোন রেজিস্ট্রেশন নাম্বার লিখে দেয়, তাহলে ওই রিসিভ কপিটি যত্ন করে নিজের কাছে রাখতে হবে। 

সপ্তমত – এরপরে আপনি যে মোবাইল নাম্বার দিয়েছিলেন সেই মোবাইল নাম্বারে মেসেজ আসবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে ভূমিহীন কৃষক প্রকল্পে আপনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, এবং প্রথম কিস্তির টাকা আপনার ব্যাংক একাউন্ট টি প্রদান করা হয়েছে। 

👉 যদি টাকা না ঢুকে কি করবে 

ভূমিহীন কৃষক প্রকল্পের টাকা যদি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের না ঢুকে, তাহলে যে রিসিভড কপি আপনি পেয়েছিলেন, সেই রিসিভড কপিটি নিয়ে আপনাকে আপনার নিকটবর্তী B.D.O অফিসের ভূমিহীন কৃষক দফতরে গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। 

অথবা পুনরায় যখন দুয়ারে সরকার ক্যাম্প হবে তখন ওই রিসিভ কপি নিয়ে গিয়ে আপনাকে দেখাতে হবে। 

👉 প্রকল্পে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরেও টাকা না ঢুকলে কি করবেন 

যদি আবেদনের পর আপনি যে মোবাইল নাম্বার দিয়েছিলেন তাতে মেসেজ আছে, এবং মেসেজে উল্লেখ থাকে আপনাকে ভূমিহীন কৃষক প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এবং আপনার ব্যাংক একাউন্টে টাকা প্রদান করা হয়েছে। 

অর্থাৎ নাম নথিভুক্ত হওয়ার পরেও ব্যাংকে টাকা না ঢুকলে আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে D.B.T লিংক করতে হবে। কারণ এর মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের কোন টাকা সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে গিয়ে ঢোকে। 

আপনি ব্যাংকের কর্মচারী বা ম্যানেজারকে গিয়ে বলবেন আমার একাউন্টে D.B.T লিঙ্ক রয়েছে নাকি একটু চেক করে দেখুন তো। যদি থাকে ভালো, আর যদি না থাকে তাহলে লিংকটা করে দিতে বলবেন।

এরপরে দেখবেন এর পূর্বে প্রদান করা সমস্ত কিস্তির টাকা আপনার ব্যাংক একাউন্টে ঢুকে যাবে। 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *