SIR Mapping | কি ডকুমেন্ট লাগবে এবং কিভাবে দিবেন

SIR Mapping আপডেট সংক্রান্ত এই আর্টিকাকেলে আমি আলোচনা করেছি হিয়ারিং ডকুমেন্টস গুলি আপনারা কেমনভাবে সাজিয়ে টেবিলে নিয়ে যাবেন, কোন কোন ডকুমেন্টস নিয়ে যাবেন, ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ।

মাধ্যমিকের এডমিট কার্ড এসআইআর এর হিয়ারিং এর জন্য বা ইলেকশন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত যে 13 টি ডকুমেন্ট, তার মধ্যে কিন্তু এডমিট কার্ডকে আজকে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে না। সেটা ইলেকশন কমিশন একটি লেটারের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে। 

এরপরে রয়েছে যে বিএলও সিগনেচার আপলোড। বিএলও অ্যাপে ছয় নম্বর ফর্মে যখন আমরা চেকলিস্ট ভেরিফাই করছি বা ফিল্ড ভেরিফিকেশন করছি , তখন যে বিএলও সিগনেচার আপলোডের সমস্যা সেটা কিভাবে করবেন আপলোড সেটা আমি দেখাবো। আর বিএলও অ্যাপে যে নতুন ভার্সন সেখানে একটা নতুন মেনু আবার যুক্ত হয়েছে সেটা হচ্ছে যে ডকুমেন্ট আপলোডেড বাই সিটিজেন এগেন্স্ট নোটিস। এই সমস্ত বিষয়গুলো নিয়ে আমি আলোচনা করব।

 তো প্রথমে আমরা দেখে নেব যে হিয়ারিং এর জন্য মানে যে ডকুমেন্টস গুলো আপনারা নিয়ে যাবেন সেই ডকুমেন্টস গুলো কেমন করে সাজাবেন। তো এইখানে যে তালিকাটা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এটা কিন্তু আমার তৈরি করা কোন তালিকা নয়। 

আমাদের এই RO সাহেব আমাদেরকে আজকে পাঠিয়েছেন। তো সেই তালিকাটাই কিন্তু আমি আপনাদের দেখাচ্ছি। অর্থাৎ তিনি কেমনভাবে ডকুমেন্টগুলি সাজিয়ে নিতে বলেছেন। তো হিয়ারিং এর জন্য নিম্নবর্ণিত ডকুমেন্টস গুলি পরপর এইভাবে সাজাবেন। কিভাবে? 

👉 ডকুমেন্টস কিভাবে সাজাবেন – 

প্রথম  – প্রথমে রয়েছে ‘হিয়ারিং নোটিস বিএলও কপি’ অর্থাৎ যেটা অরিজিনাল কপি যেটা বিএলওর কাছ থেকে পেয়েছেন সেই কপিটা দিতে হবে। 

দ্বিতীয় – এরপরে দিতে হবে ‘ইএফ ফর্ম বিএলও কপি’ অর্থাৎ বিএলওর কাছে যে এনমারেশন ফর্মটা রয়েছে অরিজিনাল কপি ছবি সহ লাগানো সেইটা দিতে হবে। 

তৃতীয় – এরপরে দিতে হবে 2002 সালের ভোটার লিস্টের প্রথম পৃষ্ঠা এবং ম্যাপিং দেখানো ব্যক্তির নাম থাকা পৃষ্ঠা। অর্থাৎ 2002 সালের যার সঙ্গে ম্যাপিং দেখিয়েছি সেই ব্যক্তির নাম যে পাতায় রয়েছে সেই পাতাটা দিতে হবে। 

  সেই সঙ্গে একদম উপরের পাতাটও দিতে হবে। আর অবশ্যই আপনারা মার্কিং করে দেবেন যে কোন নামটা কোন নামটার সঙ্গে ম্যাপিং হয়েছে, সেটা মার্কিং করে দিতে হবে।

চতুর্থ – এরপর দিতে হবে বিএলও আন্ডারটেকিং ফর্ম সম্পূর্ণ পূরণ করা, বিএলও ও ভোটারের টিপ বা সই সহ অর্থাৎ বিএলওরা যে  আন্ডারটেকিং দিচ্ছে সেই বিএলও আন্ডারটেকিং লেটার বা সার্টিফিকেট, যেখানে ভোটারেরও সই থাকবে এবং বিএলওর সিগনেচার থাকবে । 

  আমাদের ব্লকে কিন্তু সেরকম একটা আন্ডারটেকিং ফরম্যাট দেওয়া হয়েছে।  যেখানে ভোটার এবং বি এল উভয়েরই সিগনেচার করার জায়গা রয়েছে। 

পঞ্চম – এরপরে থাকছে যে ভোটারের ডকুমেন্টস। এখানে ভোটারের বিভিন্ন ডকুমেন্ট দিতে পারেন। 

👉 মাধ্যমিকের এডমিট সম্পর্কে –

মাধ্যমিকের এডমিট কার্ড সম্পর্কে ‘ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ র তরফ থেকে জানানো হয়েছে মাধ্যমিকের এডমিট কার্ডকে গণ্য করা হবে না। 

👉 লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির ডকুমেন্ট

 এক্ষেত্রে একটা কথা বলে রাখি যে, এখানে যে ডকুমেন্টস গুলোর কথা বলা হয়েছে, এটা কিন্তু আপনার ওই নাগরিকত্ব প্রমাণ করার ডকুমেন্টস নয়। 

কারণ এখন ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ যে হেয়ারিং চলছে, সেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির হেয়ারিংকে মোকাবেলা করার জন্য, বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ যেটা আপনার নামে হয়েছে সেইটাকে দূর করার জন্য এই ডকুমেন্টস গুলোর কথা বলা হয়েছে।

 এখানে কিন্তু ইলেকশন কমিশন কর্তৃক যে 13 টি ডকুমেন্টস  সেইগুলোর কথা না। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির ডকুমেন্টস কিন্তু আলাদা। আর ওই যে 13 টি ডকুমেন্টস যেটা নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য, সেটা কিন্তু আলাদা। 

তো এক্ষেত্রে অনেকটা রিলাক্সেশন রয়েছে।  যে 13 টি বা 11 টি ডকুমেন্টস গুলো রয়েছে, ওইগুলো দিয়ে কিন্তু সবসময় লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির মোকাবেলা করা যাবে না।  তো লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির ডকুমেন্ট লিষ্টে কিন্তু মাধ্যমিকের এডমিট কার্ডের কথা উল্লেখ নাই। 

👉 মহিলাদের ক্ষেত্রে বাবার নাম সহ ডকুমেন্ট সমূহ 

সেই সঙ্গে বার্থ সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট, প্যান কার্ড এবং রেশন কার্ডের কথা বলছে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে ওখানে তো বেশিরভাগ ডকুমেন্টস স্বামীর নাম রয়েছে। তাই পিতার নাম থাকা কোন ডকুমেন্টসের যদি প্রয়োজন হয় তো সেক্ষেত্রে প্যান কার্ডে পাওয়া যায়। 

অনেকেআর আবার প্যান কার্ড থাকে না। তো সেক্ষেত্রে রেশন কার্ডেও কিন্তু অনেক সময় বাবার নাম থাকে। তাই রেশন কার্ডকেও এখানে অন্তর্ভুক্ত করেছে।  এরপরে কাস্ট সার্টিফিকেট, সেই সঙ্গে আধার কার্ড, এগুলো হচ্ছে ভোটারের ডকুমেন্টস।

কমিশন বলছে যে, সকলের আধার কার্ড অবশ্যই দেবেন। অর্থাৎ ইলেকশন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত যে ডকুমেন্টস তালিকা সেখানে কিন্তু আধার কার্ডকেও মান্যতা দেওয়া হয়েছে। 

তবে আধার কার্ডকে সিটিজেনশিপ ডকুমেন্টস হিসেবে গ্রাহ্য  করা না হলেও সেটাকে একটা প্রুফ অফ আইডেন্টিটি হিসেবে গ্রাহ্য করা হচ্ছে।  সেজন্য  আধার কার্ডটা প্রত্যেকে দেবেন। অর্থাৎ অন্যান্য ডকুমেন্টস তো দিচ্ছেন। অন্যান্য ডকুমেন্টস এর সঙ্গে আধার কার্ডও দিতে হবে। 

👉 পিতামাতা ও দিদা, দাদুর ডকমেন্ট দিয়ে ম্যাপিং

এবার একই রকমভাবে নিজের ডকুমেন্টস দিয়ে যদি কাজ না হয়, অনেক ক্ষেত্রে পিতামাতার ডকুমেন্টসও দিতে হতে পারে। বিশেষ করে যারা দাদু, ঠাকুরমা, দিদা, দাদু এদের সঙ্গে ম্যাপিং করেছে সেক্ষেত্রে একাধিক ডকুমেন্ট লাগবে। 

তো সেক্ষেত্রে কিন্তু পিতা-মাতার ডকুমেন্টস গুলো এখানে দিতে হবে, যেগুলি উপরে উল্লেখ রয়েছে।  

👉 সেলফ অ্যাটেস্টেড বিষয়ে

ভোটার যে সমস্ত ডকুমেন্টস তার দিচ্ছে সেগুলির প্রত্যেকটিতে সেলফ অ্যাটেস্টেড করতে হবে, অর্থাৎ নিজেকে সিগনেচার করতে হবে। 

আর যারা টিপছাপ দেবে ডকুমেন্টে তাদেরকে অবশ্যই ওই টিপছাপটা কার সে নামটা নিচে লিখে দিতে হবে।  তো এই হচ্ছে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি সংক্রান্ত যে হিয়ারিং চলছে,  সেই হিয়ারিং এর জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসের তালিকা।

 এবং এই ডকুমেন্টসগুলো এরকমভাবে পরপর পর পর সাজিয়ে নিতে হবে। তারপরে মানে ×××× 

👉 ডকুমেন্ট সাজানো শর্টকাটে

প্রথমে ভোটারের ডকুমেন্টস – তারপরে তার পিতা-মাতার ডকুমেন্টস – এরপর যদি কোনো ভোটার  হয়তো তার দাদুর সঙ্গে ম্যাপিং করেছে, সেক্ষেত্রে কি হবে ,  সেই ভোটারের নিজের একটা ডকুমেন্ট দিতে হবে যেখানে তার বাবার নাম রয়েছে,  এবার সেক্ষেত্রে তার বাবারও একটা ডকুমেন্ট লাগবে,  যে ডকুমেন্টে তার বাবার নাম রয়েছে, অর্থাৎ দাদুর সঙ্গে ম্যাপিংটা হয়ে গেল ।

👉 মায়ের সঙ্গে ম্যাপিং

এবার কেউ যদি মায়ের সঙ্গে ম্যাপিং করে, তো আমাদের বার্থ সার্টিফিকেট ছাড়া অন্যান্য ডকুমেন্টে কিন্তু মায়ের নাম তেমন থাকে না,  তো সেক্ষেত্রে মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক আমাদের এস্টাবলিশ করার জন্য নিজের একটা ডকুমেন্ট দিতে হবে , যেখানে বাবার নাম লেখা আছে। এবার মায়ের একটা ডকুমেন্ট যেখানে বাবাকে স্বামী হিসেবে দেখানো আছে সেই মায়ের সঙ্গে। তাহলে কিন্তু প্রমাণ হয়ে যায়।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *