প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফ থেকে একাডেমিক স্কোরের নাম্বার বিভাজনে অনেক রদবদল করা হয়েছে।
যেখানে উচ্চমাধ্যমিক এবং ট্রেনিং কোর্সের ( d.el.ed or Special D.Ed) নাম্বার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কো কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি যে নাম্বার ছিল, সেটিও পরিবর্তন হয়েছে। সেই সঙ্গে টেটের জন্য নাম্বার বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এক্সপেরিয়েন্সের জন্য নাম্বার দেওয়া হয়েছে।

প্রাইমারি পরীক্ষা
প্রথমত,- প্রাইমারিতে শিক্ষকতা করার জন্য যে সর্বনিম্ন যোগ্যতা লাগে তার মধ্যে একটি হল উচ্চ মাধ্যমিক। উচ্চমাধ্যমিকে কমপক্ষে পঞ্চাশ শতাংশ নাম্বার থাকতে হয় । তবে ব্যাকওয়ার্ড শ্রেণির জন্য ৫ পার্সেন্ট ছাড় দেয়া হয়ে থাকে।
দ্বিতীয়তঃ – সেই সঙ্গে NCTE অ্যাপ্রুভড করা কলেজ থেকে ডি.এল.এড বা RCI রিকগনাইজড করা কলেজ থেকে স্পেশাল ডি.এড কোর্স করা থাকতে হবে। তবে এই কোর্সগুলি চলাকালীনও প্রাথমিক শিক্ষকের প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসা যায়। কিন্তু যতদিন না পর্যন্ত এই কোর্স গুলির সার্টিফিকেট পাওয়া যাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত কোন রিকুটমেন্ট এ অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
তৃতীয়ত,- সেই সঙ্গে আপনার বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের উর্ধ্বে হতে হবে এবং আপনাকে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
চতুর্থত– প্রাইমারি শিক্ষকতা হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই WBTET পাস করা থাকতে হবে। তথা প্রাইমারি টেট পাস করা সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
প্রাইমারি টেট পাশের জন্য ক্রাইটেরিয়া
WB প্রাইমারি TET পরীক্ষা ১৫০ নম্বরের হয়ে থাকে। যেখানে শিশু শিক্ষা, বাংলা, অংক, ইংরেজি, পরিবেশ বিজ্ঞান সহ মোট পাঁচটি সাবজেক্ট থেকে প্রশ্ন থাকে।
প্রত্যেকটি বিষয়ে ৩০টি করে প্রশ্ন থাকে এবং প্রত্যেকটি প্রশ্নের মান ১ নম্বর করে মোট ৩০ নাম্বার থাকে। প্রশ্ন ভুল হলে কোন নেগেটিভ মার্ক থাকে না।
প্রাইমারি টেটে পাস করতে হলে মোট ১৫০ নম্বরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৯০ নাম্বার তুলতে হবে, তবে যারা সংরক্ষিত ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে তাদেরকে সর্বনিম্ন ৮২ নাম্বার তুলতে হবে।
প্রাইমারি রিক্রুটমেন্টে একাডেমিক স্কোরের নাম্বার বিভাজনে পরিবর্তন
বর্তমানে যে একাডেমিক স্কোরের পরিবর্তন হয়েছে সেখানে আগে মাধ্যমিকে ছিল ৫ নাম্বার, কিন্তু নতুন নিয়মে এখনো ৫ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে। অর্থাৎ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে একাডেমিক স্কোরের কোন পরিবর্তন করা হয়নি।
উচ্চমাধ্যমিকে আগে যেখানে ১০ নাম্বার বরাদ্দ করা ছিল সেই জায়গায় নতুন নিয়মে পরিবর্তন করে পাঁচ নম্বর করা হয়েছে।
ট্রেনিং কোর্স যেখানে 15 নাম্বার বরাদ্দ করা ছিল, সেখানে কমিয়ে ৫ নাম্বার করা হয়েছে।
প্রাইমারি টেট পরীক্ষায় যেখানে ৫ নাম্বার বরাদ্দ ছিল, সেই জায়গায় বাড়িয়ে ২৫ নাম্বার বরাদ্দ করা হয়েছে।
আগের পুরনো নিয়মে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটির জন্য ৫ নাম্বার ছিল, বর্তমানে সেখানে কোন নাম্বারই প্রদান করা হয়নি। অর্থাৎ একটা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি এর জন্য নাম্বার সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আগে যেখানে এক্সপেরিয়েন্সের জন্য বা প্যারা টিচারদের জন্য কোন নাম্বার বরাদ্দ ছিল না, নতুন নিয়মে সেখানে পাঁচ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে।
| পুরনো নিয়মে নম্বর বিভাজন | নতুন নিয়মে নাম্বার বিভাজন |
|---|---|
| মাধ্যমিকে ছিল – ০৫ নম্বর | মাধ্যমিকে রয়েছে – ০৫ নাম্বার |
| উচ্চমাধ্যমিকে ছিল – ১০ নম্বর | উচ্চমাধ্যমিকে হয়েছে – ০৫ নম্বর |
| ট্রেনিং কোর্স ছিল – ১৫ নম্বর | ট্রেনিং কোর্স হয়েছে – ০৫ নম্বর |
| প্রাইমারি TET ছিল – ০৫ নম্বর | প্রাইমারি TET হয়েছে – ২৫ নম্বর |
| এক্সট্রা কারিকুলার – ০৫ নম্বর | এক্সট্রা কারিকুলার- নাম্বার দেয়নি |
| এক্সপেরিয়েন্সে নাম্বার ছিল না | এক্সপেরিয়েন্সে দিয়েছে ০৫ নম্বর |
:: পর্ষদ এই নিয়মের পরিবর্তন করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে রায় জানতে চেয়েছে। যদি তারা সম্মতি হন তাহলে পর্ষদ সেই অনুযায়ী আগের যে প্রাইমারি রিক্রুটমেন্টের process শুরু করবে।